ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৭ শাবান ১৪৪৬

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চট্টগ্রামে আর পাহাড় কাটা যাবে না: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৪৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫
চট্টগ্রামে আর পাহাড় কাটা যাবে না: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সম্মাননা স্মারক তুলে দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

চট্টগ্রাম: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, চট্টগ্রামে আর পাহাড় কাটা যাবে না। পাহাড় কাটলে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা হবে না।

মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে৷ আইনের মুখোমুখি করতে হবে। তখন আর কেউ পাহাড় কাটবে না।
পাহাড় যদি না থাকে তাহলে চট্টগ্রামের পরিচয় কী থাকে।  

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নগরের জিমনেশিয়াম মাঠে অমর একুশে বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  

কেউ যদি পাহাড় কাটে তাহলে জেলা প্রশাসককে জানানোর অনুরোধ জানান উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। যদি জেলা প্রশাসক কাজ না করে তবে সিটি করপোরেশনের মেয়রকে জানাতে বলেন তিনি।

বইমেলায় এবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন একুশে সম্মাননা পদক দেওয়া হয়েছে ভাষা আন্দোলনে বদিউল আলম চৌধুরী (মরণোত্তর), সমাজসেবা ও গবেষণায় অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, চিকিৎসাবিজ্ঞানে অধ্যাপক ইমরান বিন ইউনুস, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, সমাজসেবায় কামরুন মালেক, সঙ্গীতে নকীব খান, সাংবাদিকতায় জাহেদুল করিম ও ক্রীড়ায় তামিম ইকবাল খানকে। সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন কথাসাহিত্যে অধ্যাপক আসহাব উদ্দিন আহমদ (মরণোত্তর), প্রবন্ধ ও গবেষণায় অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান, শিশুসাহিত্যে মিজানুর রহমান শামীম, শিশু-চিকিৎসা সাহিত্যে অধ্যাপক প্রণব কুমার চৌধুরী, কবিতায় জিললুর রহমান ও অনুবাদে ফারজানা রহমান শিমু।  

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন,  এই আয়োজন চট্টগ্রামের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বইমেলার এই ২৬ দিনের প্রতিটি আয়োজনে আমাদের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত গর্বের। বাইরের কোনো শিল্পী নয়, আমাদের সিটি করপোরেশনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিয়েছে যা আমাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। আমাদের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সমাজের নেতৃত্ব দেবে। এ ধরনের আয়োজন তাদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মেয়র ১৫০টিরও বেশি স্টল ও প্রকাশক-লেখকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যারা মেলায় অংশ নিয়ে এটি সফল করতে সহযোগিতা করেছেন।  

স্বাগত বক্তব্য দেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এমএ মালেক, অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও মরহুম বদিউল আলম চৌধুরীর মেয়ে নাজনীন কাউসার চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। পদক পাওয়া গুণী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন উপদেষ্টাসহ অতিথিরা।

চট্টগ্রামের অমর একুশে বইমেলার পর্দা বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে নামল। তবে, অমর একুশে বইমেলার পাঠকরা বই কিনতে পারবেন আরও দুদিন, শুক্রবার পর্যন্ত।

বাংলাদেশ সময়: ২০৪০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫ 
এআর/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।