ভুয়া তথ্যের সেই পোস্ট সরিয়ে নিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি পোস্টটি সরিয়ে নেন।
এর আগে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হাসিনার পুত্র জয় তার পোস্টে একটি ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ার করে দাবি করেন, ওয়েবসাইটটি শফিকুল আলম এবং জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়কের ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স অ্যাকাউন্টের হিসাব প্রকাশ করেছে।
ওই ওয়েবসাইটের বিশ্বস্ততা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ ‘ভুঁইফোড়’ বলেও আখ্যা দেন ওয়েবসাইটটিকে।
এই পোস্ট দেওয়ার পর জয়কে ‘অপতথ্যের জনক’ আখ্যা দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
জয়ের ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করে শফিকুল আলম লেখেন, অপতথ্যের জনক ও ডিজিটাল লুট মাস্টার আমার সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভুয়া ও মনগড়া খবর ছড়াচ্ছেন। আমাদের জানামতে, এই ওয়েবসাইটটি ভুয়া সংবাদ প্রকাশকারীদের মধ্যে একটি।
তিনি আরও লেখেন, আমি আগেই আমার সম্পদের হিসাব প্রকাশ করেছি। আমার কোনো ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ড নেই। শুধু একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট আছে। আমার বিরুদ্ধে কিছু খুঁজে পেলে খুশি হবো।
জয় পোস্ট সরিয়ে ফেললে শফিকুল আলম আরেক পোস্টে লেখেন, তথ্যবাবা ঘুম থেকে উঠে আমার সঙ্গে নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সম্পর্কে একটি ভুয়া খবর শেয়ার করেন। কয়েক ঘণ্টা পর সেটি সরিয়ে ফেলেন।
তিনি লেখেন, এই হলো সেই অপতথ্যের জনক, যাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা পূজা করেন। এই সেই তথাকথিত হার্ভার্ড থেকে পড়াশোনা করা ডিজিটাল লুট মাস্টারের কাজের নমুনা। এটি তার মায়ের কাছ থেকে পাওয়া এক ধরনের জিনগত রোগ, যিনি জন্মগতভাবে মিথ্যাবাদী।
প্রেস সচিব লেখেন, তার মা একমাত্র সত্য কথাটি তখনই বলেছিলেন, যখন তিনি গর্ব করে একদল মোসাহেব সাংবাদিককে জানিয়েছিলেন, তার পিয়ন ৪০০ কোটি টাকা (বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী ৩২ মিলিয়ন ডলার) আয় করেছে। ওই কোটি টাকার পিয়নের অবৈধ সম্পদের তদন্ত শুরু হলে দেখা যায়, তিনি আসলে ৬৩০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ কামিয়েছেন।
সুমন আলী নামে একজন জয়ের পোস্ট নিয়ে ফেসবুকে লেখেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে ফোন হাতে নিয়েই প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও সারজিস আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একটি সংবাদ চোখে পড়ল। বিস্তারিত জানতে গিয়ে দেখলাম যে সাইটে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে সেটি আসলে কোনো সংবাদমাধ্যম নয়।
তিনি লেখেন, ওই সাইটটি ওয়ার্ডপ্রেসে তৈরি করা একটি ব্লগ সাইট। যে কেউ এই ধরনের সাইট চালাতে পারে। ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর চালু হওয়া সাইটটিতে ২৩টি নিউজ (পোস্ট) আছে যার প্রায় সবগুলো বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে করা। আমিনুল হক পলাশ নামের একটি আইডি থেকে নিউজটি প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি আরও লেখেন, পলাশ বুয়েটে ছাত্রলীগ করতেন। দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থায় চাকরি করা পলাশ বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। আওয়ামী লীগের লোকজন এই সংবাদটি শেয়ার করছেন। দেখলাম দেশের জ্যেষ্ঠ কিছু সাংবাদিকও এই নিউজটি শেয়ার করেছেন। আসলে যে সাইটে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে সেটি কোনো সংবাদমাধ্যম নয় বরং একটি গুজব ওয়েবসাইট।
বাংলাদেশ সময়: ০০১১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫
নিউজ ডেস্ক