বছরটা হয়ে এলো বলে। নতুন দিনের বার্তা নিয়ে নতুন বছর দ্বারপ্রান্তে।

মালালা ইউসুফজাইকে চেনো না এমন কেউ আছো কী? মনে হয় না। নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে সোচ্চার পাকিস্তানি এ কিশোরীকে এখন এক নামে চেনে পুরো বিশ্ব। শিক্ষা ক্ষেত্রে সোচ্চার হওয়ার কারণেই তালেবানদের গুলিতে গুরুতর আহত হতে হয় মালালাকে। ২০১২ সালের শেষের দিকের এ ঘটনার পর বছর জুড়েই নিজের সাহসিকতার জন্য আলোচনার কেন্দ্রে ছিল মালালা। জাতিসংঘ পুরস্কার, শাখারভ পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। লিখেছেন ‘আই অ্যাম মালালা’ নামে একটি বই। নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০১৩ এর জন্যও মনোনয়ন পায় মালালা।

সারউইন সারাবি কিন্তু একদম ছোট, মাত্র তিন বছর বয়স ওর। কিন্তু তাহলে কী হবে, জ্ঞানে-বুদ্ধিতে অনেক বড় মানুষদেরও ছাড়িয়ে গেছে ও। তাই তো এতটুকু বয়সে মেনসার সদস্যপদ পেয়ে গেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষদের নিয়ে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মেনসা। সেখানে সদস্য হতে হলে আইকিউ পরীক্ষায় অন্তত ৯৮ এর বেশি নম্বর পেতে হয়। মেনসার সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সারউইন। মাত্র ১০ মাস বয়সেই কথা বলতে শিখেছে ও, এইটুকু বয়সে পড়ে ফেলেছে ১৯০টি বই! ওর সবচেয়ে পছন্দের বই কী জানো? না না, গল্প-ছড়া নয়, ও সবচেয়ে ভালোবাসে এনসাইক্লোপিডিয়া! সম্প্রতি এক আইকিউ পরীক্ষায় ও ১৬০ নম্বর পেয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান ১ শতাংশ মানুষের মধ্যে রয়েছে সারউইনের নামটিও।

আমেরিকার নাগরিক তানিস্ক ম্যাথিউ আব্রাহামের বয়স মাত্র ১০ বছর। এই বয়সে মেনসার সদস্য হয়ে গেছে সে। সবচেয়ে মজার কথা হচ্ছে এই ছোট্ট ছেলেটা এখন কলেজে পড়ছে! জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ে তার অনেক বেশি আগ্রহ। কলেজে এ বিষয়ক কোনো ক্লাব না থাকায় মন খারাপ হয়েছিল খুব। জ্যোতির্বিদ্যার অধ্যাপকরা তাই দেখে এ বিষয়ে একটি ক্লাব খোলার উদ্যোগ নেন। ২০১২-১৩ সালে সে ক্লাবের ফাউন্ডিং ভাইস প্রেসিডেন্ট বানানো হয় তানিস্ককে। ২০১৩-১৪ সালেও সে একই পদের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। সব মিলে ২০১৩ সাল জুড়ে আলোচনায় ছিল তানিস্কও।

বাংলাদেশের ছেলে ফাহাদ। ওর নামও শুনেছ নিশ্চয়ই। বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ ফিদে মাস্টার ফাহাদ। পুরো নাম মোহাম্মদ ফাহাদ রহমান। এ বছর পঞ্চম শ্রেণিতে উঠবে ফাহাদ। এরই মধ্যে দাবায় নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে ও। এমনকী বড়রাও ওর সঙ্গে দাবায় পেরে ওঠে না। ফাহাদ শুধু বাংলাদেশেই আলো ছড়ায় নি, দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে পুরো পৃথিবীর কাছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতায়ও জয়ী হয়েছে আমাদের ছোট্ট ফাহাদ। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইন শহরে অনুষ্ঠিত তরুণদের বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপসে অনূর্ধ্ব-১০ বছরের বিভাগে দ্রুতগতির দাবায় (ব্লিটজ) রৌপ্যপদক পেয়েছে ও। একই বিভাগে মূল প্রতিযোগিতায় হয়েছে পঞ্চম।

বাংলাদেশের ক্ষুদে প্রোগ্রামার রূপকথা। বাংলাদেশ নয় শুধু, ও পুরো বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ কম্পিউটার প্রোগ্রামার। সাত বছর বয়সী রূপকথা এখনো স্কুলে ভর্তি হয়নি। দিনে বারো ঘণ্টা সময় ব্যয় করে কম্পিউটারের সামনে বসে, কিন্তু গেইম খেলতে বা কার্টুন দেখতে নয়। ওর বয়সী শিশুরা যখন কম্পিউটারে গেইম খেলায় মগ্ন, এই শিশুটি তখন গেইমের চরিত্র পরিবর্তন করতে ব্যস্ত। রূপকথার নাম উঠেছে রিপ্লি’জ বিলিভ ইট অর নট বইয়ে। শিগগিরই ও নাম তুলতে যাচ্ছে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ডস রেকর্ডসেও।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৫০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৩
সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর