যেহেতু এবার খোলা স্থানে থার্টিফার্স্ট উদযাপন অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে সেহেতু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর থাকবে বড় হোটেল, আবাসিক এলাকা ও কূটনৈতিক পাড়ায়। এজন্য বেশ কিছু এলাকায় সন্ধ্যা থেকেই যান ও মানুষজন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
জনসমাগমের নামে রাজধানীর কোথাও যেন কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা না হতে পারে সে সব বিষয় মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকার যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ট্রাফিক উত্তর ও দক্ষিণ বিভাগের পক্ষ থেকে বাড়তি প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
এছাড়া থার্টি ফার্স্ট এর আয়োজনে রাজধানীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ডিএমপির রমনা ও গুলশান বিভাগও আলাদা আলাদাভাবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে রাজধানীর সব মদের দোকান বন্ধ থাকবে। রাত ৮টা থেকে পরদিন ১ জানুয়ারি ভোর ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, জনসমাবেশ ও উৎসবস্থলে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শন করা যাবে না বলেও ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ।
থার্টিফার্স্ট উদযাপন ঘিরে কোন ধরনের নাশকতার আশঙ্কা নেই বা এ ধরনের কোন হুমকি নেই বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন ডিএমপির উপ-কমিশনার (ডিসি, মিডিয়া) মাসুদুর রহমান।
তিনি বলেন, থার্টিফার্স্ট একটা মেগা ইভেন্ট, আর এ ধরনের ইভেন্ট নতুন কোন অভিজ্ঞতা না। যে স্থানগুলোতে জনসমাগম হবে সে স্থানগুলো চিহ্নিত করে ডিএমপির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সাধারণত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গুলশান বনানী এলাকাগুলোতেই জনসমাগম বেশি হবে। এসব এলাকায় সন্ধ্যা থেকে জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তবে যারা এসব এলাকার বাসিন্দা না, কিন্তু যৌক্তিক কারণ থাকলে তল্লাশি করে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।
এছাড়া থার্টিফার্স্টে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে মোট ১০ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে বলেও জানান তিনি।
র্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বাংলানিউজকে বলেন, থার্টিফার্স্ট উপলক্ষে বড় বড় হোটেল, আবাসিক এলাকা, কূটনৈতিক পাড়া ও এর আশেপাশের এলাকার নিরাপত্তায় বাড়তি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শনিবার বিকেল থেকেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট র্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্যরা নগরীজুড়ে টহলের দায়িত্বে থাকবেন।
চেকপোস্টগুলোতে এবার র্যাবের ডগ স্কোয়াড থাকবে বলেও জানান তিনি।
থার্টিফার্স্ট নাইটে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত হবার কোন কারণ নেই বলে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন ডিএমপি কমিশনার মো.আছাদুজ্জামান মিয়া।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত হবার কোন কারণ নেই। আমরা অত্যন্ত তৎপর ও অত্যন্ত সচেতন। পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে। তবে সবারই সচেতন হবার প্রয়োজন আছে। সবাই চোখ নাক খোলা রাখবেন। পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। ’
গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় বসবাসরত নাগরিকদের থার্টিফার্স্ট নাইটে রাত ৮টার মধ্যে নিজ এলাকায় ফিরে আসার জন্য অনুরোধ রইল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার পর বহিরাগত কোন ব্যক্তি বা যানবাহন প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ঢাবির আবাসিক এলাকায় বসবাসরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গাড়ি নির্ধারিত সময়ের পর পরিচয় দেওয়ার মাধ্যমে নীলক্ষেত ও শাহবাগ ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে।
গুলশান এলাকায় প্রবেশের জন্য কাকলি ক্রসিং এবং আমতলী ক্রসিং উন্মুক্ত থাকবে। তবে নির্ধারিত সময়ের পর পরিচয় দিয়ে এ দুটি ক্রসিংয়ে যাতায়াত করতে হবে। সন্ধ্যার পরে সার্বিক নিরাপত্তার সার্থে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ঢাবি এলাকায় যারা বসবাস করেন না তাদের ওই এলাকাগুলোতে প্রবেশে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। রাত ৮টার পর থেকে হাতিরঝিল এলাকায় কেউ অবস্থান করতে পারবেন না।
বাংলাদেশ সময়: ১৮২৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৬
পিএম/আরআই