মাদারীপুর: মাদারীপুর ডিসি অফিসের কোটিপতি কেরানি (অফিস সহকারী) মিজান ফকিরের নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশন মাদারীপুরের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে (জেলা ও দায়রা জজ আদালত) এ চার্জশিট দাখিল করেন।
এর আগে তিনি রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, অভিযুক্ত মিজানুর রহমান ফকির মাদারীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাঠককান্দী এলাকার মো. কিনাই ফকিরের ছেলে।
ডিসি অফিসের কর্মচারী চার বাড়ির মালিক-শিরোনামে কয়েক বছর আগে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর দুদক তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্তের পর দুদক অবৈধ সম্পদ অর্জনের সত্যতা পায়।
দুদকের দাখিল করা চার্জশিট সূত্রে জানা গেছে, ৫৩ লাখ ২০ হাজার ৭৪৭.৫২ টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগে মিজানুর রহমান ফকির দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। তদন্তে সাক্ষ্য প্রমাণে প্রাথমিকভাবে অপরাধ প্রমাণ হয়েছে। এছাড়া আসামি ৫৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৭০.০৭ টাকার সম্পদের তথ্য
অসৎ উদ্দেশে গোপন রেখে মিথ্যা তথ্য দেন। দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন তিনি। যা তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হয়েছে।
দুদক মাদারীপুরের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান জানান, তদন্তে জব্দ করা আলামত ও রেকর্ডপত্র মোতাবেক দুদক জানতে পারে যে, মিজানুর রহমান গাড়ি বেচা-কেনার সঙ্গে জড়িত। যা তিনি তার বক্তব্যে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। তিনি গাড়ির ব্যবসা থেকে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করেছেন। তিনি একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে গাড়ির ব্যবসা করার জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র নেননি। তিনি গণকর্মচারী (আচরণ), ১৯৭৯ এর বিধি-১৭ ধারায় এ বিষয়ে বলা আছে যে কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে সরকারি কার্য ব্যতীত অন্য কোনো ব্যবসায় জড়িত হতে অথবা অন্য কোনো চাকরি বা কার্য করতে পারবেন না। তিনি এ বিধি মানেননি। যা দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৬৮ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আসামি একই ভাবে গণকর্মচারী আচরণ লঙ্ঘন করেছেন। ১৯৭৯-এর বিধি-১১ ধারা বিষয়ে বলা আছে যে কোনো সরকারি কর্মচারী ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ কিনলে বা বিক্রি করলে বিভাগীয় প্রধান বা সরকারের অনুমোদন নিতে হয়। ১৯৭৯ এর বিধি-১২ ধারা [ভবন, অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট ইত্যাদি নির্মাণ অথবা ক্রয়] বিষয়ে বলা আছে যে, কোনো সরকারি কর্মচারী আবেদনের মাধ্যমে সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যবসায়িক বা আবাসিক ব্যবহারের জন্য নিজে বা ডেভোলপারের দ্বারা কোনো ভবন, অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট ইত্যাদি নির্মাণ করাতে বা ক্রয় করতে পারবে না। তিনি সজ্ঞানে তা লঙ্ঘন করেছেন। তাছাড়া আসামি নিয়মবহির্ভূতভাবে ভিপি/অর্পিত সম্পত্তি কেস নম্বর: ঢওও-ঠচ-১২৮/৭৩-৭৪ নং লিজ কেস মূলে ০.১৪০০ একর সরকারি (ভিপি) সম্পত্তি আইন বহির্ভূত বরাদ্দ নিয়ে ভোগ-দখলে আছেন।
ভিপি বা অর্পিত সম্পত্তি আইন মোতাবেক যে শহরে লিজ গ্রহীতার নিজস্ব বাড়ি বা জায়গা রয়েছে এবং তাকে ওই শহরের অর্পিত সম্পত্তির কোনো বাড়ি বা জায়গা লিজ দেওয়া যাবে না- এ ধরনের পূর্ব লিজ গ্রহীতার লিজ বাতিল করা যাবে। আসামি সজ্ঞানে তা লঙ্ঘন করে নিজে লাভবান হওয়ার জন্য ভিপি সম্পত্তি আইন বহির্ভূত লিজ বরাদ্দ নিয়ে বাউন্ডারি দরজা-ঘর নির্মাণ করে ভোগ-দখলে আছেন।
অনুসন্ধানে প্রমাণ হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের স্মারক নং-৩১০৯৪ তারিখ ২৪/০৮/২০২৩ খ্রি. মোতবেক নির্দেশে; জেলা প্রশাসক. মাদারীপুর এর স্মারক নং-১৭১ তারিখ:১৩/০৮/২০২৪ খ্রি. দ্বারা লিজ বাতিল করে কমিশনকে জানানো হয়। অর্থাৎ পারিপার্শিক ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আসামি একজন আইন অমান্যকারী এবং একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে লাভের আশায় ব্যবসা এবং অবৈধ সুবিধা গ্রহণে তার পূর্ব রেকর্ড বিদ্যমান।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৩১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫
এসআই