বরিশাল: বরিশালের শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানে তৈরিতে ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা (৪৯ কোটি টাকার কিছু বেশি) বরাদ্দ হয়েছে।
শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়াম বরিশালকে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিকায়ন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার এই প্রকল্পে আমূল পরিবর্তন আসবে ইনডোর ও আউটডোর স্টেডিয়ামে। সেসঙ্গে সুইমিং পুলের সংকটও নিরসন হবে। আর এতে দক্ষিণাঞ্চলে ক্রিকেট খেলার অবকাঠামোতেও আমূল পরিবর্তন ঘটবে।

এদিকে দুই বছর মেয়াদী (২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত) প্রকল্পের পাঁচ প্যাকেজের কাজ গত মাসে শুরু হলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোভিডের কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের থেকে কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে উন্নয়ন প্রকল্প শেষ করতে। এছাড়া বর্তমানেও স্বাধীনভাবে স্টেডিয়ামের সব জায়গা প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা ব্যবহার করতে পারছেন। যে বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনকেও মৌখিকভাবে অবগত করা হয়েছে। যদিও জেলা প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছেন স্বাধীনভাবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের কাজ করার ব্যবস্থা করে দেওয়ার।

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলো জানান, এর ফলে বরিশাল আন্তর্জাতিক খেলাধূলার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ঢাকার সঙ্গে সঙ্গে এখানেও সিলেট-রাজশাহীর মতো অন্তর্জাতিক খেলাধূলার সুযোগ সৃষ্টি হবে। শুধু একটি স্টেডিয়াম নয়, এর সঙ্গে ইনডোর স্টেডিয়াম, আউটডোর আরেকটি ভেন্যু ছাড়াও লাইটিং ও সুইমিং পুল চালু হতে যাচ্ছে, যা বরিশালে কোনো দিনই চালু ছিল না।
প্রকল্প পরিচালক মো. শাহ আলম সরদার জানান, আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক মানে উন্নতিকরণ এবং জেলা সুইমিংপুলের উন্নয়ন প্রকল্প নামে প্রকল্পটি ৪৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকার। ২০২৩ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হতে একটু বিলম্ব হবে, এর কারণ কোভিডের কারণে নির্ধারিত সময়ে এটি শুরু করা যায়নি। তবে, এটি দ্রুত করার এখন চেষ্টা চলছে।
প্রকল্পের কার্যক্রম তদারকিতে এসেছেন প্রকল্প প্রকৌশলী শিবু লাল খাসকেল জানান, এখন ১৬ ধাপের গ্যালারি সংবলিত এই স্টেডিয়ামটি আর্ন্তজাতিক মানের করতে চাহিদা অনুযায়ী মাঠের কাজের শুরু হয়েছে। মাঠের মাটি ও পিচ তৈরির কাজ ছাড়াও আউটার স্টেডিয়ামের খোলোয়াড়দের ড্রেসিংরুম নির্মাণ পুরোদমে চলছে। সাধারণত আন্তর্জাতিক মানে মাঠ তৈরি করতে হলে চারিদিকে ৪শ ৫০ ফিট মাঠ দরকার এখানে তা ৪শ ৮০ ফিট, অনেক ক্ষেত্রে তার থেকেও বেশি রয়েছে। এছাড়া স্প্রিং ল্যাব সিস্টেমে মাঠ তৈরি ও গ্যালারিতে আচ্ছাদনের কার্যক্রম চলছে।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ শামীম জানান, বরিশালে অবকাঠামো উন্নয়ন সূচনায় প্রভাব পড়বে এর খেলাধূলায়, এর ফলে গতি বাড়বে খেলাধূলায়।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার জানান, এই উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হলে বরিশাল একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে গড়ে উঠবে। এদিকে সুইমিং পুলটির জন্য দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও এটি সংস্কার করে তেমন লাভ নেই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই নতুন করে করতে হবে, এই কারণে হয়তো এর ডিপিপি চেঞ্জ হলে সময়সীমা ও খরচ দুটোই বাড়বে।
বাংলাদেশ সময়: ২০৫০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৯, ২০২২
এমএস/এএটি