তখন বিকেল গড়িয়ে সবেমাত্র সন্ধ্যা। ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে দুপুর থেকে শহর এলাকায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান।
স্থানটা বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্ম। চারপাশটা ফাঁকা। মেঝে ঢালাই করা। অনেক স্থানে ঢালাইকৃত মেঝের ওপর থেকে পলেস্তার উঠে গেছে। সেখানেই চট বিছিয়ে রাত কাটান এই বৃদ্ধা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে অভাবী ছিন্নমূল মানুষজন জীবিকার সন্ধানে বগুড়া শহর এলাকা বসতি গড়ে তুলেছেন অনেক আগ থেকেই। এরমধ্যে শহরের রেলওয়ে স্টেশন, হাড্ডিপট্টি, রেললাইন, বাদুরতলা, চেলোপাড়া, নারুলী অন্যতম। এসব এলাকায় লোকজন ঝুপড়ি ঘর তুলে বসবাস করেন।
এদের মধ্যে শিশু, কিশোর-কিশোরীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের ভাঙাড়ি, পলিথিন, কাগড় কুড়িয়ে বেড়ায়। অনেকেই রিকশা চালান। হোটেল-রেস্তোরাঁয় শ্রমিকের কাজ করেন। আবার অনেক নারী বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। বয়স্ক নারী-পুরুষ অন্যের দ্বারে দ্বারে চেয়েচিন্তে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।


রিকশা চালক বাদশা মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, ‘দিনের বেলায় রিকশা চালাতে পারি না। সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত রিকশা চালাই। কিন্তু শীতে কুলাতে পারি না। তাই কোন দিন রাত ১২টা আবার কোন দিন রাত ২টা পর্যন্ত কষ্ট করে রিকশা চালায়। এরপর যা কামাই হয় তাই নিয়ে রিকশা গ্যারেজে রেখে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি চলে যাই’।
বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া বাংলানিউজকে জানান, রোববার (০৭) ২৪ ঘণ্টায় এ জেলায় সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি ও সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ০৮২৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৭, ২০১৮
এমবিএইচ/এসএইচ