বিভিন্ন মুসলিম দেশে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ঐতিহাসিক কিছু মসজিদ পরিদর্শন করলেও নিজ দেশে প্রেসিডেন্ট হিসেবে কোনো মসজিদ পরিদর্শন করেননি। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের মুসলিম সদস্য কিথ এলিয়াসন চিঠি লিখে ওবামার কাছে অনুযোগও জানিয়েছিলেন।
আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট মনোনয়নপ্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলমানদের নিয়ে বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যখন নানা বিতর্ক চরমে, তখনই এই উদ্যোগটি নিলেন।
বস্তুত এর মাধ্যমে ওবামা আমেরিকার মুসলমানদের কাছে তার দলের পক্ষ থেকে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছেন।
হোয়াইট হাউস থেকে শনিবার জানানো হয়, ওবামা বুধবার বাল্টিমোরের ক্যান্টন্সভিলে অবস্থিত ইসলামিক সোসাইটি ও মসজিদ আর রাহমা পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি মুসলমানদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করবেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামা এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মসজিদ পরিদর্শন করবেন। ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে একটি ভাষণও দেবেন ওবামা। ওই ভাষণে ওবামা মার্কিনিদের ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে ও সত্যের সঙ্গে সব সময় থাকার আহ্বান জানাবেন বলে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এর আগে ২০১০ সালে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার একটি মসজিদ ও ২০০৯ সালে তুরস্কের নীল মসজিদ পরিদর্শন করেন ওবামা।
বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে আগাগোড়া সমালোচনা করে আসছেন ওবামা। প্রতিবছর রমজানের সময় মুসলমানদের সঙ্গে বিশেষ ইফতারেরও আয়োজন করে থাকেন তিনি।
প্যারিস ও ক্যালিফোর্নিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম-বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে মুসলিমদের আশ্বস্ত করতে গত বছরের ডিসেম্বরে হোয়াইট হাউসে বিভিন্ন ধর্মের নেতাদের নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বাল্টিমোরে ওবামার মসজিদ পরিদর্শনের প্রাক্কালে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কিথ ম্যালে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস করেন, সমৃদ্ধ বহুজাতিকতা আমেরিকার অন্যতম শক্তি।
ওবামার কথা উদ্ধৃত করে ম্যালে বলেন, মুসলিম আমেরিকানরা আমাদের বন্ধু, প্রতিবেশী, সহকর্মী ও ক্রীড়াবিদ। এক পোশাকে নারী ও পুরুষেরা আমাদের দেশ রক্ষা করছে।
ম্যালে বলেন, বাল্টিমোরে মসজিদ পরিদর্শনের সময় এসব কথাই পুনর্ব্যক্ত করবেন ওবামা।
ম্যালে বলেন, আমরা আশাবাদী ওবামার মসজিদ পরিদর্শনের ফলে আমাদের সমাজে ও বসবাসকারী মুসলমানরা একটি ভালো বার্তা পাবেন।
ওবামার এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন্স-কেয়ারের মুখপাত্র ইব্রাহিম বলেছেন, মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষমূলক হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় বেশ কয়েক বছর ধরেই ওবামাকে মসজিদে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছিল। তার (ওবামা) মসজিদে আগমনে ‘পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ’ প্রকাশের চিরাচরিত মার্কিন রীতির স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ঘটবে এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াতে আগ্রহীদের কাছেও এটি একটি ইতিবাচক বার্তা।
১২ জানুয়ারি স্টেট অব ইউনিয়নের বক্তব্যে বারাক ওবামা আমেরিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যে রাজনীতি মানুষের ধর্ম বা বর্ণকে আঘাত করে তা পরিত্যাগ করুন। যখন রাজনীতিবিদরা মুসলিমদের অপমান করে, মসজিদে হামলা চালায়, একটি শিশু গুলিবিদ্ধ হয় -সেগুলো আমাদের জন্য নিরাপদ নয়।
অন্যিদিকে গত বছর ডিসেম্বর মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নার্দিনোতে এক মুসলিম দম্পতির গুলিতে ১৪ জন নিহত হন। এ ঘটনার পর এক প্রতিক্রিয়ায় রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট মনোনয়নপ্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলমানদের নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। তবে ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট ওবামা রাজনীতিকদের এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ, ২০০১ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ওয়াশিংটনের ইসলামিক কালচারাল সেন্টার পরিদর্শনে যান এবং ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসেবে অভিহিত করেন।

বাংলাদেশ সময়: ২০৪৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩১, ২০১৬
এমএ