কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচন সামনে রেখে কার্যক্রম শুরু করে দিল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
এই মহা সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছিল, ‘পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস সর্বস্তরের কর্মীদের সভা’। সেখান থেকে তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের জানিয়ে দিলেন, চতুর্থবার ক্ষমতা ধরে রাখতে আসন্ন নির্বাচনে তৃনমূলের কত আসন প্রয়োজন।
তৃণমূল নেত্রী দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আগামী বিধানসভা ভোটে ২১৫টি আসন পেতেই হবে। পাশাপাশি আসন আরও বেশি পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। ২১৫ থেকে বেশি আসন পেতে হবে। কোনোভাবেই যেন এর চেয়ে কম না হয়। বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেসের জামানত জব্দ করতে হবে।
প্রসঙ্গত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আসন সংখ্যা ২৯৪টি। তাতে ১৪৮টি আসন পেলেই ক্ষমতা দখল করা যায়। মুখ্যমন্ত্রী তার দলের কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক করে দেন বিজেপির ভোট কারচুপির বিষয়ে।
বিজেপিকে নিশানা করেন মমতা বলেন, বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি ভুলিয়ে দিচ্ছে। ভোট এলেই মনে পড়ে চাপ বাড়াতে হবে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের নেতাদের হেনস্তা করা হয়। সেদিকে সবাই নজর রাখুন। বাংলাকে কলুষিত করার চক্রান্ত করে চলেছে বিজেপি। তেমনই ক্রমাগত বাংলাকে বঞ্চনা করছে কেন্দ্র সরকার। এর বিরুদ্ধে ২০২৬-এ বাংলার মানুষ বিজেপিকে ফের জবাব দেবে।
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে যেখানে একটি অঞ্চলে ১৮ হাজার ভোটার ছিল, সেখানে চলতি বছর ২২ হাজারের বেশি। এমনকি একই ভোটার কার্ড নম্বরে একাধিক নাম। এ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সরাসরি দুটি সংস্থার নাম উল্লেখ করে মমতা দাবি করেন, বিজেপি রাজ্যে দুটি সংস্থা পাঠিয়ে ভোটার কার্ড জালিয়াতি করছে।
তৃণমূল প্রধান বলেছেন, আমি যতদূর খবর পেয়েছি। ওরা (কেন্দ্রের শাসক দল) বাংলায় এজেন্সি পাঠিয়েছে। একটি ‘অ্যাসোসিয়েশন অব বিলিয়ন মাইন্ডস’, অপরটি ‘কোম্পানি ইন্ডিয়া ৩৬০ সাবসিডিয়ারি’ নামে দুটি এজেন্সি আছে। এখানে ওদের অনেক লোক পাঠিয়েছে রাজ্যে। তারা অনলাইনে কারসাজি করেছে। একই এপিক কার্ডে বাইরের (ভিন রাজ্যের) লোকের নাম তুলেছে। মমতার দাবি, বাইরে থেকে অন্য কেউ এসে ভোট দিয়ে দেবেন।
উদাহরণ দিয়ে মমতা উল্লেখ করেন, আমার কাছে তথ্য আছে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের রানিনগরের সইদুল ইসলামের নাম ও হরিয়ানা রাজ্যের সোনিয়া দেবী নামে এক ভোটার কার্ড। অর্থাৎ তাদের কার্ডের সিরিয়াল নম্বর এক। আবার বাংলার মহম্মদ আলি হোসেন ও হরিয়ানার মনজিতের এপিক নম্বরও একই।
মমতার প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গ ভোট দেবে নাকি হরিয়ানা ভোট দেবে?’ লম্বা লিস্ট দেখিয়ে মমতা বলেন, সব হরিয়ানার ভোটার। এটা বিজেপির ব্যবসা। শুধু হরিয়ানা নয়, গুজরাটের ভোটারের নামও রয়েছে তালিকায়।
মমতার দাবি, এভাবেই সদ্য শেষ হওয়া দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে বিধানসভায় বিজেপি জিতেছে। তিনি বলেন, ওরা ধরতে পারেনি, কিন্তু আমরা ধরব। খোদ কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ছত্রছায়ায় পুরো কাজটা হচ্ছে বলেও অভিযোগ মমতার।
বাংলার ভোটারদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান মমতার। পাশাপাশি প্রশাসনকেও এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেন মমতা।
সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার তৃণমূলের মহাসম্মেলন থেকে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে নেতা-কর্মীদের বিশেষ বার্তা এবং লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরি করে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাংলাদেশ সময়: ২০১৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫
ভিএস/আরএইচ