ব্রাহ্মণবাড়িয়া: শুধু দলীয় প্রতীক নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ ও বিগত সময়ে করা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখে ভোটাররা এবার রায় দেবে বলে মনে করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মমিন বাবুল।
অপরদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হলে ধানের শীষ প্রতীকেই মানুষ ভোট দেবে বলে মনে করছেন আখাউড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন লিটন।
প্রথমবার দলীয় প্রতীকে সারা দেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের এমনটাই জানা গেছে।

ভোটাররা বলছেন, দল, প্রতীক ও ইমেজ বিবেচনার চেয়ে এলাকার কল্যাণের ব্যাপারটি তাদের কাছে অগ্রগণ্য। এসব মাথায় রেখেই তারা এবার রায় দেবেন।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল ও তার অনুসারীরা মনে করছেন, মেয়র থাকাকালীন গত চার বছরে তিনি ২০ কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন। পৌরসভা এলাকার সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। দেড় হাজারের বেশি সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছে। মেধাবি ও অসহায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাই কাকে ভোট দিলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে তা বিবেচনা করেই ভোটাররা তাদের রায় দেবে।
তারা আরো মনে করছেন, গত চার বছরে এই পৌরসভার যে উন্নয়ন হয়েছে তা এর আগের ১৫ বছরেও হয়নি।
অপরদিকে, বিএনপির মেয়র প্রার্থী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মন্তাজ মিয়া ও তার সমর্থকদের দাবি, সুষ্ঠু ও প্রশাসনের প্রভাবমুক্ত নির্বাচন হলে ধানের শীষ প্রতীকেরই জয় হবে। মানুষ অনেক দিন ভোট দিতে পারেনি।
সীমান্তবর্তী এই এলাকাটি বিএনপির ঘাঁটি দাবি করে তারা বলেন, এবারও মানুষ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেবে।

তবে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে নিজের শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী কার্যালয় মাত্র দুটি। নির্বাচন কমিশনের লোকজন আমার অফিস গজ ফিতা দিয়ে মেপে ছোট করতে বলেছেন। অথচ আওয়ামী লীগ প্রার্থী নামে বেনামে ২০টিরও বেশি অফিস নির্মাণ করলেও তারা কিছু বলছেন না।
তবে বিএনপি প্রার্থীর এ অভিযোগ অস্বীকার করেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ বদর উদ-দোজা ভূঁইয়া। তিনি বলেন, অভিযোগ করার অধিকার সবারই আছে। তবে আমরা সব প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ই ছোট করতে বলেছি। কাউকে এককভাবে বলা হয়নি।
২৪ হাজার ৯৫০ জন ভোটারের এই পৌরসভায় এবার মেয়র পদে পাঁচ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৯ এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর এই পৌরসভায় নির্বাচন অনু্ষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৩২ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৫
এসএইচ