গোলাপগঞ্জ থেকে ফিরে: মাত্র ৮ দিন পর নির্বাচন। প্রচার-প্রচারণায় সবর গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকা।
দু’তিন দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন বলেও জানান প্রার্থীরা।
এসব প্রতিশ্রুতি তাদের ইশতেহারেও থাকবে বলেও জানান ভোটারদের। তবে সাধারণ ভোটাররা রয়েছেন নিরব ভূমিকায়। প্রার্থীদের কথায় বিশ্বাস রাখতে পারছেন না।
পৌরসভার গুগারকুল এলাকার ভোটার আজিজুর রহমান বলেন, নির্বাচন আসলে প্রার্থীরা বিজয়ের জন্য ভোটারদের কাছে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছড়ান। বিগত দিনগুলোতেও এরকম প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিলো। নির্বাচনের পরে এসবের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।

তবে এবার প্রাথীরা রেকর্ডভূক্ত প্রতিশ্রুতির কথা জানাচ্ছেন। প্রার্থীদের দাবি নির্বাচিত হলে নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটাবেন।
এ পৌরসভায় মোবাইল প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল জব্বার চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ‘গোলাপগঞ্জ ‘এ’ গ্রেডের পৌরসভা। বাস্তবে তা ‘সি’ গ্রেডের অবস্থায় রয়েছে। নির্বাচিত হলে পৌরসভাকে বাস্তবে ‘এ’ গ্রেডে রূপ দেওয়া হবে।
রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারসহ পৌরসভার ডাম্পিং ইয়ার্ডের জন্য (ময়লা ফেলার স্থান) জায়গা বরাদ্দ নেওয়া হবে। তাছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ৬ মাসের মধ্যে সমাধান করা হবে।
তিনি বলেন, আগে ডকুমেন্ট ছাড়া পৌরসভার ট্যাক্স নেওয়া হতো। নির্বাচিত হলে এ গ্রেডের পৌরসভা হিসেবে সামঞ্জস্য রেখে ট্যাক্স আদায় করা হবে। এসব প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী ইশতেহারেও থাকবে বলে জানান তিনি।
পৌরসভায় ধানের শীষ নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী গোলাম কিবরিয়া শাহীন বাংলানিউজকে বলেন, ‘এ’ গ্রেডের পৌরসভা হিসেবে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখাতে পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে শত বছরের মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কাজ করা হবে। রাস্তাঘাট সংস্কারের পাশাপাশি গোলাপগঞ্জকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।
নির্বাচনী ইশতেহারে পৌরবাসীর প্রধানতম চাওয়া বিদ্যুৎ, গ্যাস লাইন সম্প্রসারণ ও বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের বিষয়টি তার ইশতেহারে গুরুত্ব পাবে।
এছাড়া দেশের অন্যতম গ্যাসক্ষেত্র কৈলাশটিলায় নিম্নপদগুলোতে স্থানীয় ৮০ ভাগ লোককে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি তার ইশতেহারে প্রধান্য পাবে বলেও জানান তিনি।
নৌকা প্রতীকে বর্তমান মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু বাংলানিউজকে বলেন, ২০০২ ও ২০০৮ সালে এ পৌরসভায় মেয়র নির্বাচিত হই। প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর ৯০ ভাগ রাস্তার কাজ করি। সেখান থেকে দ্বিতীয় বার নির্বাচিত হওয়ার পর পৌরসভাকে ‘এ’ গ্রেডের মর্যাদায় উন্নীত করতে সক্ষম হই। ড্রেনেজ ও রাস্তাঘাটের ৮০ ভাগ উন্নয়ন হয়েছে। পাশাপাশি শত বছরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে দাবি তার।

এছাড়া এবারের ইশতেহারে অবশিষ্ট ড্রেনের কাজ ও রাস্তাঘাট সংস্কার ছাড়াও পৌরসভার অর্থায়নে ডিগ্রি কলেজ স্থাপন করা হবে। যেখানে গরীবের মেধাবী সন্তানরা বিনা টাকায় পড়ালেখা করতে পারেন। আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নে পৌর শহরকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। এছাড়া পৌরসভার তহবিল থেকে গরীব-অসহায়দের বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়াসহ ২৫/৩০টি উন্নয়ন কর্মকান্ড নির্বাচনী ইশতেহারে থাকবে।
তবে ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল কাদির খান বলেন, পাপলুর সময়ে পৌর এলাকার আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি। দুর্ভোগের মধ্যে কাটাতে হয়েছে পৌরবাসীকে। এলাকার মানুষের মাঝে এ নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাই কাজের মানুষকে ভোট দেব আমরা।
পৌর সদরের ব্যবসায়ী জুবের আহমদ বলেন, সব প্রার্থীরা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে আমরা মুখ বা মার্কা দেখে নয়, যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেবো।
পৌর এলাকার ভোটার রিক্সা চালক শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘আমার কাছে সব প্রার্থীই ভাল। এরপর তাদের মাঝে থেকে বাঁছাই করে একজনকে ভোট দেবো।
এরই মধ্যে অনেক প্রার্থী আমাদেরকে বিভিন্ন আশার বাণী শুনিয়েছেন বলে জানান শাহজাহান।
বাংলাদেশ সময়: ১৮১৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২১, ২০১৫
এনইউ/বিএস