জামালপুর সদর পৌরসভা থেকে: ময়লা-আবর্জনায় নাকাল জামালপুর সদর পৌরসভার বাসিন্দারা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আবর্জনার দুর্গন্ধে পথচারীরা নাকে-মুখে রুমাল চেপে চলাচল করতে হয়।
দু’বার করে মেয়র নির্বাচিত হয়েও আওয়ামী লীগ ও ধানের শীষ প্রতীকের দুই প্রার্থী শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন ও মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি অপরিচ্ছন্ন শহরের বদনাম থেকে বের হতে পারেননি। ভোটারদের সেন্টিমেন্ট আঁচ করতে পেরে এবার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে অগ্রাধিকার পাচ্ছে ‘পরিচ্ছন্ন সুন্দর শহর’ গড়ার প্রতিশ্রুতি।
পৌরসভার প্রতিটি সড়ক ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার পাশাপাশি পাড়া-মহল্লা পরিচ্ছন্ন রাখতে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের অঙ্গীকার করেছেন তারা। একইসঙ্গে জলাবদ্ধমুক্ত শহর, যানজট দূরীকরণসহ নানা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি মুখে।
রোববার (২০ ডিসেম্বর) রাতে শহরের নয়াপাড়া ও গেটপাড় স্টেশন রোড এলাকায় বাংলানিউজের মুখোমুখি হয়ে তারা তুলে ধরেন নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। বর্তমান ও সাবেক দুই মেয়রই পৌরবাসীর ময়লা-আবর্জনার তকমার জন্য একে অন্যকে দোষারোপ করেন।

ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উঠান বৈঠক ও ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ছুটছেন তারা। তৃতীয়বারের মতো মেয়র হওয়ার লড়াইয়ে ব্যস্ততার মধ্যেও নির্বাচনের সার্বিক বিষয় নিয়ে তারা কথা বলেন।
ভোট রাজনীতিতে জিত ও হারের অভিজ্ঞতা রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি। ১৯৮৯ ও ৯৮ সালে দু’বার এ পৌরসভার মেয়র (চেয়ারম্যান) ছিলেন। তিনি বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের চাচা। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।
রোববার রাতে স্থানীয় নাছিমপুর বিদ্যালয় মাঠে উঠান বৈঠক শেষে নয়াপাড়া এলাকার নির্বাচনী ক্যাম্পে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে কর্মপরিকল্পনা করছিলেন। সেখানেই আলাপ হয় তার সঙ্গে। প্রবীণ এ রাজনীতিক দীর্ঘ বিরতির পর নিজের ভোটে দাঁড়ানোর বিষয়ে বলেন, আমি ১২ বছর মেয়র ছিলাম। পৌরবাসীর তাগাদায় ইলেকশন করছি।
বিএনপি দলীয় বর্তমান মেয়র মামুনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ পৌরসভা আমার সময়ে এতো অপরিচ্ছন্ন ছিল না। এখন শহরজুড়ে ময়লা-আবর্জনার ছড়াছড়ি। সড়কবাতি না থাকায় ভূতুড়ে পরিবেশ। বর্ষাকালে শতকরা ৬০ শতাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকে। বর্তমান মেয়র শতভাগ ব্যর্থ। এ কারণেই আমি নির্বাচন করছি।
নির্বাচিত হলে আপনার পরিকল্পনা কী, জানতে চাইলে মনি বলেন, আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবো শহরকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে। দুর্গন্ধযুক্ত অপরিচ্ছন্ন শহরের বদনাম মুছে ফেলবো। পৌর এলাকার ময়লা ফেলতে আমি স্থানীয় পলাশঘর এলাকায় ডাম্পিং স্টেশন করেছিলাম। জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমি জামালপুর সদর পৌরসভাকে মডেল পৌরসভায় উন্নীত করতে চাই।

এসময় এ প্রার্থীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাশেই বসে থাকা শফিকুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী নিজের মুঠোফোনে পৌর শহরের নয়াপাড়া এলাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ছবি দেখান।
ভোটারদের কেমন সাড়া পাচ্ছেন, জানতে চাইলে নৌকা প্রতীকের এ প্রার্থী বলেন, ভোটাররা আমাকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। পরিবর্তন ও উন্নয়নের চাকা ঘোরাতেই তারা আমাকে ভোট দেবেন। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।
পৌরসভার পাথালিয়া এলাকার একমাত্র শিশুপার্কের বেহাল অবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলেন, শহরবাসীর চিত্তবিনোদনের জায়গা নেই। শিশুদের খেলনার ব্যবস্থা নেই। আমি নির্বাচিত হলে গরুর খামার হওয়া পার্ককে সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবো। শহরে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও মাদকের ছোবল থেকে তরুণ-যুব সমাজকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবো।
আওয়ামীলীগ প্রার্থীর সঙ্গে আলাপ শেষ করে স্টেশন রোড এলাকায় যাওয়ার পথে কথা হয় অটোরিকশা চালক মো. সোহরাবের সঙ্গে। স্থানীয় বগাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা তিনি। ভোটের মাঠ গরম প্রসঙ্গে বলেন, ভোটের কথা কাউরে কমু না। ইলেকশনের দিন সকালে কেন্দ্রে গিয়া অবস্থা দেখমু। নিজেরা আলোচনা কইরা যোগ্য প্রার্থীরেই ভোট দিমু
সোহরাবের অটোরিকশা চেপেই যাওয়া হয় স্টেশন রোড এলাকায় জামালপুর জেলা বিএনপি’র কার্যালয়ে। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রচারণার ছক বুঝাচ্ছিলেন দলীয় মেয়রপ্রার্থী শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। তাদের সঙ্গে আলাপ শেষ করেই খানিক সময় দিলেন বাংলানিউজকে।

নিজেকে ৮০ শতাংশ সফল দাবি করা টানা দু’বারের এ মেয়র বলেন, পরিকল্পিত উপায়ে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার অঙ্গীকার করেছি। তিলোত্তমা জামালপুরের ভিশন বাস্তবায়ন করতে চাই।
উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতেই পৌরবাসী তাকে ভোট দেবেন বলেও মনে করেন তিনি।
১১ বছরে নিজের কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরে মামুন বলেন, সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ বংশ খাল আমি দখলমুক্ত করেছি। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে খালটি পাকা করেছি। শহরের ৯৫ কিলোমিটার আরসিসি পাকা ড্রেন নির্মাণ করেছি। আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করেছি। এবার নির্বাচিত হলে শহরকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবো।
বাংলাদেশ সময়: ১১৪৯ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২১, ২০১৫
এএ