মানিকগঞ্জ থেকে: প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে যতোই দিন যাচ্ছে ততোই চড়তে শুরু করেছে নির্বাচনী পারদ। মানিকগঞ্জ জেলার দুই পৌরসভায় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আদালতের আদেশে স্থগিত হয়ে যায় সিংগাইর পৌর নির্বাচন।
ফলে প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে মেয়র নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পুরো দৃষ্টি এখন মানিকগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের ওপর।
এখানে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো. রমজান আলী ও বিএনপির প্রার্থী নাসিরউদ্দিন আহমেদ যাদু। মেয়র পদে নির্বাচনের দৌড়ে আরো রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী কামরুল হুদা সেলিম। আওয়ামী লীগের এ বিদ্রোহী প্রার্থী লড়ছেন স্বতন্ত্র হিসেবে।
শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ও রাতে মানিকগঞ্জ শহর, গঙ্গাধরপট্টি, বিজয় মেলা এলাকা ও বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের আলাপচারিতায় বোঝা গেল, মানিকগঞ্জে নির্বাচনী লড়াই হবে ত্রিমুখী। তিন প্রার্থীরই রয়েছে নিজস্ব ভোটব্যাংক। ফলে অবস্থাটা এখন, ‘কেহ কারে নাহি ছাড়ে, সমানে-সমান’।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশেই চলছে বিজয় মেলা। আলোয়-আলোয় ঝলমল করছে চারপাশ। মেলার সীমানা দেয়াল ঘেঁষা চায়ের দোকানে খণ্ড খণ্ড আড্ডা। সেখানে কথা হয় কাদিরের সঙ্গে। যুবক কাদির জানান, রমজান আলী ও যাদুর মূল ভরসা দলীয় ভোট। বিএনপির ভোটের অবস্থাও ভালো। তবে সেলিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও আওয়ামী লীগের প্রচুর ভোট পাবেন বলে তার ধারণা। সেক্ষেত্রে যাদু কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকছে বলেই মত তার।
দেবেন্দ্র কলেজের সামনে খালপাড়ে আরেক চায়ের দোকানে ঢু মারা গেলো। কথা হলো মো. জহিরুল ইসলাম নামে একজনের সঙ্গে। রাজনীতি ও দেশের খোঁজখবর রাখা জহিরুল জানালেন, রমজান আলী গত চারবারের নির্বাচিত পৌর মেয়র। সে হিসেবে তার এক ধরনের জনপ্রিয়তা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তার মার্কা নৌকা। এটিও তার বড় ভরসার নাম।
অপরদিকে, সেলিম আওয়ামী লীগের নেতা হলেও স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। তার ব্যক্তি ইমেজ রয়েছে। তার বড় সুবিধা রমজান আলীর বিরোধী ও আওয়ামী লীগের একটা অংশ কাজ করছে সেলিমের পক্ষে।
জহিরুল আরো জানান, যাদু বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের ভোট পাবেন। তাছাড়া এবার অন্তত মানিকগঞ্জের লোকজন পরিবর্তন চায়। ফলে তারও ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিন পক্ষের কেউ কম যান না বলেও মন্তব্য তার।
পাশেই বসে থাকা অপর যুবক বায়েজিদ জানালেন, রমজান আলীর অবস্থা এবার আর আগের মতো নেই। তিনি ক্ষমতা পেয়ে পৌরসভা তার নিজের গ্রামের বাড়ির দিকে বর্ধিত করেছেন। এতে ভোট বাড়লেও এবার আর সুবিধা করতে পারবেন না।
এছাড়া কিছুদিন আগে স্থানীয় ইমাম ও শিক্ষকদের ভূরিভোজ করিয়েছেন রমজান আলী। এটি তার জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে বলে মনে করেন বায়েজিদ।

গঙ্গাধরপট্টিতে কথা হয় জেলা ছাত্রলীগের (স্থগিত থাকা) সহ সভাপতি স্বপনের সঙ্গে। জয়রা এলাকার স্বপন কাজ করছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিমের হয়ে। তার দাবি, রমজানের দুর্নীতির জবাব দেবে জনগণ। সেলিমের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছেন। তিনি সহজেই বিজয়ী হতে পারবেন।
সেলিমের বাড়ির সামনে থাকা গোকুল মণ্ডল বললেন, তিনি ভোট দেবেন সেলিমকে। জাতীয় নির্বাচনে তারা নৌকায় ভোট দিলেও এবার নৌকা তাদের মার্কা নয়। নিজের পায়ের গুলির ক্ষতচিহ্ন দেখিয়ে রাগত স্বরে মুক্তিযোদ্ধা গোকুল বলেন, পৌরসভায় সনদ আনতে গেলে ৫০০ টাকা চায়। কিন্তু সেলিম সাহেব তাদের বিনা পয়সায় নানা উপকার করেন।
মানিকগঞ্জ শহর ও শহরতলীর আরো কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেলো কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাইকিং। তবে স্থানীয়রা জানালেন, মেয়র প্রার্থীদের প্রচারণা চলছে ছোট ছোট দলে, বাড়ি থেকে বাড়ি। এসব দলে আলাদাভাবে থাকছেন, যুবক-তরুণ, বৃদ্ধ ও নারীরা।
মানিকগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪৯ হাজার ৪৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৪ হাজার ৪১৯ জন এবং নারী ভোটার ২৫ হাজার ১৩ জন।
নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী ৭০ জন এবং সংরক্ষিত ৩টি ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর প্রার্থী ১৩ জন। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৪টি।
নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন গাজী মো. আসাদুজ্জামান কবীর।
** মানিকগঞ্জকে বদলে দিতে চান সেলিম
** এখনো ফ্রি হয়নি ভোটের চা-পানি
** হিসাব-নিকাশ ‘নীরব’ ভোটারদের হাতে
** নিজের পছন্দে ভোট দিতে চান নারীরা
** ধানের শীষের ভোট আছে, গ্যারান্টি নাই
** নির্বাচনী হাওয়া লাগেনি সাভারে
বাংলাদেশ সময়: ১৪৪২ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৫
এসআর