খুলনা: খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণে ভাইস-চ্যান্সেলরের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষকরা।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ও বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় শিক্ষকরা এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন কুয়েটের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা ডিভিশনের পাবলিক রিলেশনস অফিসার শাহেদুজ্জামান শেখ।
এতে বলা হয়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসী কর্তৃক সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনা ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভাইস-চ্যান্সেলর কুয়েটের সব শিক্ষকের সঙ্গে ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। সভায় ভাইস-চ্যান্সেলর এ মর্মান্তিক হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন ও শিক্ষার্থী কর্তৃক উত্থাপিত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করেন।
৯৮ তম সিন্ডিকেটের (জরুরি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ শাস্তি (ছাত্রত্ব বাতিল, চাকরিচ্যুত) দেওয়ার সিদ্ধান্তটি উপস্থিত সবাইকে অবগত করেন। একইসঙ্গে এ হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ সবার সঙ্গে আলোচনা করেন। আহত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ সাপেক্ষে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা ও ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২০ জন আহত শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকৎসার সব ব্যয়ভার বহন করা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া জোরালোভাবে চলমান থাকবে বলে জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান। এ হামলার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার উদ্দেশে ৯৮তম সিন্ডিকেট (জরুরি) কর্তৃক গঠিত কমিটির সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এ সভায় ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে করণীয় প্রসঙ্গে শিক্ষকদের মূল্যবান মতামত জানতে চান। শিক্ষকরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী কর্তৃক এ হামলার তীব্র নিন্দা জানান। কতিপয় ছাত্র কর্তৃক ভাইস-চ্যান্সেলর ও শিক্ষকদের ওপর হামলা, অপমান ও কটূক্তির প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শিক্ষকরা দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ভাইস-চ্যান্সেলরের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধন রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের ব্যাপারে সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত খুঁজে বের করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতকরণের জোরালো দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাঘাত ঘটাতে চাইলে শিক্ষকরা সম্মিলিতভাবে যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভা শেষে ভাইস-চ্যান্সেলর উপস্থিত সব শিক্ষককে তাদের মূল্যবান মতামত দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৯১০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫
এমআরএম